স্বাস্থ্য
এয়ার ফ্রায়ার, রান্নাঘরে নতুন ডিভাইস
এয়ার ফ্রায়ারে রান্নার মজা একবার যারা পেয়ে গেছেন, তাদের কাছে এটি ছাড়া কোনোকিছু ভাজার কথা চিন্তা করা একেবারেই অসম্ভব। এয়ার ফ্রায়ার আপনার কিচেন কাউন্টারের খানিকটা জায়গা দখল করবে হয়তো, তবে যখন আপনি এটি ব্যবহার শুরু করবেন, তখন নিশ্চিতভাবেই এই কষ্ট ভুলে যাবেন আপনি।
যারা এয়ার ফ্রায়ার কিনবেন কি না, এই নিয়ে দ্বিধায় আছেন তাদের জন্যই আজকের এই নিবেদন।
স্বাস্থ্যকর রান্না : এয়ার ফ্রায়ারের সবচেয়ে বড় উপকারিতা হলো—স্বাস্থ্যকর উপায়ে যে কোনো খাবার ফ্রাই করা যায়। এয়ার ফ্রায়ারে রান্না করতে খুবই কম তেলের প্রয়োজন হয়। ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা টেন্ডার চিকেন যা-ই বানান, তেল লাগবে খুবই কম।
দ্রুত রান্না, ব্যবহার সহজ : বাইরের সব কাজ সামলে বাসায় এসে রান্না করাটা অনেকের কাছেই ক্লান্তিকর, তাই শহরে বেড়েছে টেক-আউটের চাহিদা। কিন্তু আপনার বাসায় যদি থাকে এয়ার ফ্রায়ার, তবে রান্না হতে পারে অনেকটাই সহজ। মাংসের সব ধরনের মসলা মিশিয়ে, সঙ্গে কিছু সবজি দিয়ে এয়ার ফ্রায়ারে দিলেই হয়ে যাবে ঝটপট ডিনার।
খাবার হবে মচমচে : বাসার ছোটরা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিকেন ফ্রাই খেতে খুবই ভালোবাসে, বাদ যায় না বড়রাও। বেশিরভাগ সময়ে এই ধরনের খাবার বানানো হয় ডুবো তেলে ভেজে, মচমচে করে। তবে কম তেলে এয়ার ফ্রায়ারেও কিন্তু এই মচমচে খাবারগুলো তৈরি করা যায়। পদ্ধতি কিন্তু একই। শুধু এয়ার ফ্রায়ারে দিয়ে তার ওপর হালকা করে তেল স্প্রে করে দিতে হবে।
নানাবিধ ব্যবহার : এয়ার ফ্রায়ারের বেশিরভাগ ব্যবহার সম্পর্কেই আমরা আসলে জানি না। এটিতে ফ্রাইড চিকেন থেকে শুরু করে স্প্যাগেটি, চিকেন কারি বা ডেজার্ট, বানাতে পারবেন সবই। এমনকি ফ্রোজেন যে কোনো কিছু মসলা মাখিয়ে ফ্রায়ারে দিয়ে দিলেও পেয়ে যাবেন আপনার কাঙ্ক্ষিত রান্না। এমনকি আপনার বাসায় থাকা স্কুল পড়ুয়া বাচ্চাটিও এই ফ্রায়ার ব্যবহার করতে পারবে।
কাজ করে ওভেনের চেয়ে দ্রুত : এয়ার ফ্রায়ারের একটি ভালো দিক হচ্ছে, এটি প্রি-হিট করতে হয় না। আপনি যখন ওভেনে কোনো কিছু রান্না করবেন, তখন ১৫-২০ মিনিট বা আরও বেশি সময় এটাকে প্রি-হিট করে নিতে হয়। কিন্তু এয়ার ফ্রায়ারে সেটার দরকার পড়ে না। তাই কোনো রকম সময় নষ্ট ছাড়াই এয়ার ফ্রায়ারে ঝটপট খাবার বানিয়ে নিতে পারবেন।
খাবার গরম হবে দ্রুত : শুধু খাবার রান্না না, ফ্রায়ারে খাবার গরমও হয় দ্রুত। ফ্রিজে হয়তো আগের দিনের পিৎজ্জা পড়ে রয়েছে, খানিকটা নরম হয়ে গেছে। এয়ার ফ্রায়ারে সামান্য সময় গরম করে নিলেই পাবেন একদম আগের মতো মচমচে ক্রাস্টের পিৎজ্জা, স্বাদও থাকবে আগের মতোই।
পরিষ্কার করাও সহজ : এয়ার ফ্রায়ার পরিষ্কার করা বেশ সহজ। আপনি যদি নিয়মিত রান্নার পর ফ্রায়ার পরিষ্কার করে থাকেন, তবে ফ্রায়ার থাকবে একদম চকচকে। রেগুলার ফ্রায়ার পরিষ্কার করতে ব্যবহার করুন লিকুইড ডিস ওয়াশার। ফ্রায়ারে সামান্য লিকুইড ডিস ওয়াশার নিয়ে নরম স্পঞ্জ দিয়ে পরিষ্কার করতে পারবেন।

