আর্ন্তজাতিক

অবশেষে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হলেন আনোয়ার ইব্রাহিম

নভেম্বর ২৫, ২০২২ ৮:১৬ রাত
অবশেষে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হলেন আনোয়ার ইব্রাহিম

কুয়ালালামপুর: মালয়েশিয়ার ১০তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন দেশটির অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ আনোয়ার ইব্রাহিম। বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান আবদুল্লাহ সুলতান আহমদ শাহ রাজধানী কুয়ালালামপুরের রাজপ্রাসাদে তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। দেশটির চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রধানমন্ত্রী হওয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। 

আলজাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মালয়েশিয়ার গত রবিবারের (২০ নভেম্বর) নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়ে সংকট দেখা দেয়। আনোয়ার ইব্রাহিমের নেতৃত্বাধীন জোট পাকাতান হারাপান (পিএইচ) সর্বাধিক আসন পায়। কিন্তু তা সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত নয়। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পায় সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিনের নেতৃত্বাধীন জোট মালয়-মুসলিম পেরিকটান ন্যাশনাল (পিএনও)। 

এ অবস্থায় উভয় জোট ছোট দলগুলো নিয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা শুরু করে। কিন্তু পাঁচ দিন চলে গেলেও পিএইচ ও পিএইচ কোনো জোটই সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়। এ পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করেন দেশটির রাজা সুলতান আবদুল্লাহ সুলতান আহমদ শাহ। 

অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে বৃহস্পতিবার সকালে মুহিউদ্দিন ও আনোয়ার এবং নির্বাচিত এমপিদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজা সুলতান আবদুল্লাহ। কয়েক ঘণ্টার বৈঠকের পর আনোয়ার ইব্রাহিমকে সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানান রাজা। 

বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে রাজা রাজা সুলতান আবদুল্লাহ বলেন, ‘কোনো জোটই এককভাবে জিতেনি। আবার এককভাবে কেউ হারেওনি। তবে, আমার বিশ্বাস আনোয়ার ইব্রাহিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এমপির সমর্থন আদায় করতে পারবেন। এ কারণে আমি তাকে সরকার গঠন করতে আহ্বান জানিয়েছি।’ মালয়েশিয়ার ২২২ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য ২১৩ এমপির সমর্থন দরকার হয়।

রাজপ্রাসাদে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে শপথ গ্রহণ শেষে এক টুইটে আনোয়ার ইব্রাহিম লেখেন, ‘এক কঠিন সংকটে আমাকে গুরু দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমার টিম জনপ্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে।’

মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসরুল হাদি আবদুল্লাহ সানি বলেন, ‘আনোয়ার ইব্রাহিমের জন্য এ জয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হতে তাকে যে চড়াই-উৎরাই পার হতে হয়েছে, মালয়েশিয়ার ইতিহাসে ইতোপূর্বে তা আর ঘটেনি। তাই বলা যায়, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মধ্য দিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিমের পুণর্জন্ম হলো।’

আনোয়ার ইব্রাহিমের ক্যারিয়ার : ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতি শুরু করেন আনোয়ার ইব্রাহিম। গঠন করেন মুসলিম ইয়ুথ মুভমেন্ট অব মালয়েশিয়া। ১৯৭১ সালে গ্রামীণ দারিদ্র্যে নিয়ে আন্দোলন করে তিনি জাতীয় রাজনীতিবিদদের নজরে আসেন। 

ওই বছরই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মুহাম্মদ আনোয়ার ইব্রাহিমকে নিজের দল ইউনাইটেড মালয়াস ন্যাশনাল অর্গানাইশেজনে যোগ দিতে আহ্বান জানান। আনোয়ার সে ডাকে সাড়া দেন। ১৯৮২  থেকে ১৯৯৮ সালে তিনি নানান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। উপপ্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে ১৯৯৮ সালের সেপ্টেম্বরে আনোয়ার ইব্রাহিম দুর্নীতি ও সমকামিতার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত হন। 

দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে তার কারাদণ্ড হয়। দুই দফায় ১০ বছর জেল খেটে ২০১৮ সালে তিনি বেকসুর খালাস পান। ওই বছরের নির্বাচনে তার পিপলস জাস্টিস পার্টি জয় পায়। কিন্তু নানান অভিযোগের কারণে প্রধানমন্ত্রী হতে পারেননি আনোয়ার ইব্রাহিম। 

মালয়েশিয়ার সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ওং চিন হুয়াত বলেন, ‘মালয়েশিয়া বহু জাতি, বহু ধর্মের দেশ। অর্থনীতির মতো আমাদের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থাও নড়বড়ে। এ অবস্থায় অর্থনীতিকে সামাল দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক সংহতি বজায় রাখার কাজ দক্ষ হাতে করতে হবে আনোয়ার ইব্রাহিমকে।’