কমিউনিটি
পৃথিবী যতদিন থাকবে ততদিন থাকবে ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’ : আবু জাফর মাহমুদ
জ্যাকসন হাইটস্ এ এলেই মানুষ তাকাবে ‘বাংলাদেশ’ এর দিকে - নিউ ইয়র্ক সিটিকাউন্সিলম্যান শেখর কৃষ্ণান
“দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে বাংলাদেশিদের আশা আকাংখার প্রতিফলনঘটেছে। নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস এর ৭৩ স্ট্রিটের নামকরণ করা হয়েছে ‘ বাংলাদেশ স্ট্রিট’। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মর্যাদা ও সম্মান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।এর জন্য নিউ ইয়র্ক এর বাংলাদেশীরা কৃতজ্ঞ আমেরিকার প্রতি, আমেরিকানদেরপ্রতি। বিশেষ করে সিটি কাউন্সিল মেম্বার শেখর কৃষ্ণানের কাছে যিনি নিউইয়র্কসিটি কাউন্সিলে ‘বাংলাদেশ স্ট্রিটের নাম প্রস্তাব করেন।
গত ২৬ মার্চ অপরাহ্নে জ্যাকসন হাইটসের ৩৭ এভিনিউ ও ৭৩ স্ট্রীট এর কোণায়এ নামফলকের আনুষ্ঠানিক উম্মোচন করেন সিটি কাউন্সিলম্যান শেখর কৃষ্ণাননিজেই।
সেসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জ্যাকসন হাইটস এলাকার কংগ্রেসম্যান গ্রেসমেং, নিউ ইয়র্ক স্টেট এসেম্বলীওমেন কাটালিনা ক্রুজ ও জেসিকা রোজাস, সিটিকাউন্সিলম্যান লিন্ডা লী ও মাইকেল জিনারিস, নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়রের এশিয়ানএডভাইজরী কাউন্সিলের সদস্য ফাহাদ সোলায়মান, মুক্তিযুদ্ধের মাউন্টেনব্যাটালিয়ন কমা-ার আবু জাফর মাহমুদ, এটর্ণী মঈন চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্রআওয়ামী লীগের প্রেসিডেনট ড. সিদ্দিকুর রহমান, জেবিবিএ-র এক অংশেরসভাপতি গিয়াস আহমেদ, জেবিবিএ-র অপর অংশের সভাপতি হারুন ভুঁইয়া , বাংলাদেশ সোসাইটি নিউ ইয়র্ক এর সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দীকী, হক এন্ড সনস এর ফজলুল হক প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন কম্যুনিটিএকটিভিসট মিলন রহমান।
বাংলাদেশ স্ট্রিট’ এর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন লাভ আমেরিকায় বাংলাদেশিদেরদৃষ্টান্তমূলক এক অর্জন।”- বলেছেন নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রিয়ব্যক্তিত্ব জয় বাংলাদেশ ইনক্ এর প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধেরমাউন্টেন ব্যাটালিয়ন কমা-ার আবু জাফর মাহমুদ। আনুষ্ঠানিকভাবেকাউন্সিলম্যান শেখর কৃষ্ণান ও নিউইয়র্ক সিটির অন্যান্য কর্মকর্তারা বাংলাদেশস্ট্রিট উদ্বোধনের পর তিনি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সাংবাদিকদের কাছেউচ্ছ্বাসমাখা প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন।
নিউইয়র্কে হোম কেয়ার সেবার পথিকৃৎ, বাংলা সিডিপ্যাপ ও অ্যালেগ্রা হোমকেয়ারের চেয়ারম্যান এ- সিইও এবং জয় বাংলাদেশ ইনক্ এর প্রতিষ্ঠাতা আবুজাফর মাহমুদ বলেছেন, পৃথিবী যতদিন থাকবে, ততদিন বাংলাদেশ থাকবে।আর বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন থাকবে এই বাংলাদেশ স্ট্রিট।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু জফর মাহমুদ আরো হলেন, আজ আমরা কৃতজ্ঞতা জানাতেএসেছি। আজ আমাদের দলমতের উর্ধে ওঠার দিন। আজ আমাদের মধ্যে কোনোভেদাভেদ থাকা উচিৎ নয়। আমরা সকল বাংলাদেশিরা সর্বোচ্চ কৃতজ্ঞতা জানাইআমেরিকা সরকার থেকে শুরু করে বাংলাদেশ স্ট্রিট বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্তপ্রতিটি মানুষের প্রতি।
আবু জাফর মাহমুদ জ্যাকসন হাটস এর বাংলাদেশ স্ট্রিটটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেতার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের র্যালী নিয়ে উপস্থিত হন। র্যালীটি জ্যাকসন হাইটসএর ৭২-২৬ নাম্বার বাংলা সিডিপ্যাপ অফিস থেকে বের হয়ে ৭৩ স্ট্রিটে নির্ধারিতউদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়ে শেষ হয়। সেসময় র্যালী থেকে ‘জয় বাংলাদেশ’ ‘জয়আমেরিকা’ ‘জয় স্বাধীনতা দিবস’ শ্লোগান দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের বীরত্ব, গর্ব ও অর্জন সম্পর্কে নাতিদীর্ঘ বক্তব্যেনিউইয়র্ক সিটির ২৫ ডিস্ট্রিক্ট এর কাউন্সিলম্যান শেখর কৃষ্ণান বলেন, নিউইয়র্কেভারতীয় আমেরিকান সমাজের প্রথম জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি বাংলাদেশেরমহান স্বাধীনতার গুরুত্ব ও তাৎপর্য গভীরভাবে উপলব্ধি করি। আমি জানি, স্বাধীনতার পেছনে কত দীর্ঘ ইতিহাস, কত বীরত্বগাথা ও ত্যাগের দৃষ্টান্ত রয়েছে।আজকের এই উপলক্ষটি আমার অফিস ও আমার কামউনিটির জন্য অনেকবেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, আমাদের বাংলাদেশি কমিউনিটি সারা পৃথিবীতেইপরিচিত। এই জ্যাকসন হাইটস এ তারা অনেক বেশি উচ্চকণ্ঠ। এখানকারকমিউনিটির প্রতিনিধিত্বশলি ব্যক্তিবর্গ গৌরবোজ্জল ভূমিকা রেখে চলেছেন।বাংলাদেশিরা তাদের ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি দায়িত্বশীল। তারা ভাষা ওসংস্কৃতিকে নিউইয়র্কের জীবনধারার সঙ্গে যুক্ত করতে সমর্থ হচ্ছে। বাংলাদেশিদেরআজকের এই অবস্থানে আসার পেছনে পূর্ব পুরুষদের গুুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।তিনি বলেন, একটি রাস্তার নামকরণ ছোটো কোনো বিষয় নয়, এটি নিউইয়র্কেরগোটা ল্যান্ডস্কেপের সঙ্গে যুক্ত একটি বিষয়। এখানে এই সড়কে উপস্থিত হলে, বাংলাদেশ স্ট্্িরট নামটি দেখা যাবে, এর মধ্য দিয়ে ভেসে উঠবে একটিইতিহাস। আর এই নামকরণের সঙ্গে এই কমিউনিটির প্রত্যেকটি মানুষের অবদানযুক্ত।

