বাংলাদেশ

শর্ত পালন হয় না বলেই বাংলাদেশে নিয়ন্ত্রণে নেই দুর্নীতি

ডিসেম্বর ১০, ২০২২ ৯:২৭ সকাল
শর্ত পালন হয় না বলেই বাংলাদেশে নিয়ন্ত্রণে নেই দুর্নীতি

ঢাকা: দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ বিশ্ব—এই স্লোগান সামনে রেখে ৯ ডিসেম্বর  শুক্রবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হয় আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস-২০২২। দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) দিবসটি পালন করবে। তবে প্রতিবছরই দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালন করা হয়, দুর্নীতি দমনে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোও কাজ করে; কিন্তু দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আসে না। দুর্নীতি রোধে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে যেসব শর্ত রয়েছে, তা ঠিকভাবে পালন করা হয় না বলেই দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের চারটি শর্ত রয়েছে। এসব শর্ত আমাদের দেশে পালন করা হয় না। ফলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আসে না। চার শর্তের প্রথমটি হচ্ছে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা শুধু ঘোষণা থাকলে হবে না, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, যারা দুর্নীতি করে, যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, তাদের আইনগত জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। বাংলাদেশে এর নজির খুই কম। তৃতীয়ত, যেসব প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি দমন বা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে, সেসব প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর হতে হবে। চতুর্থ শর্ত হচ্ছে, দুর্নীতি মেনে নেওয়া যাবে না, দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়া যাবে না—এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করে তুলতে হবে।’

দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান এম বদিউজ্জামান বলেন, ‘দুর্নীতি সংঘটিত হওয়ার পেছনে নানা কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো লোভ-লালসা, রাতারাতি বড় লোক হওয়ার চেষ্টা, সামাজিক স্ট্যাটাস, ভোগবিলাস ইত্যাদি।’

সংস্থাটির এক মহাপরিচালক কালবেলাকে বলেন, ‘কোনো দুর্নীতিকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। তার পরও আমাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বলছে, অভাববোধ করে সমাজের একটি অংশ দুর্নীতিতে জড়ান। এ ধরনের দুর্নীতি করে একটু ভালো থাকা যায়। দুর্নীতি করা আরেক শ্রেণি হচ্ছে যাদের বাড়ি-গাড়ি ও ব্যাংক ব্যালেন্স রয়েছে; কিন্তু তারাও অবৈধভাবে অর্থ অর্জন করছেন। তারা এটি করছেন লোভ থেকে। সোশ্যাল স্ট্যাটাস থাকবে না, তিনি বা তার পরিবার ছোট হয়ে যাবে, এমন চিন্তা থেকে অনেকে দুর্নীতি করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুর্নীতির আরেকটি শ্রেণি হচ্ছে অসম প্রতিযোগিতা। তিনি বা তার পরিবারের সদস্যরা সমাজ বা প্রতিবেশী অন্য কারও বেশি সম্পদ দেখে নিজেদের তাদের কাতারে শামিল করতে গিয়ে দুর্নীতি করছেন। যারা দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থের মালিক হচ্ছেন, তারা সেই অর্থ পরে বিদেশে পাচার করেন। অর্থ পাচারের কারণ অবৈধ অর্থ দেশে সামাল দিতে না পারা। যারা দুর্নীতিতে সঙ্গে জড়ান, তারা একটি নেশা থেকে এটি করেন। দুর্নীতি প্রতিরোধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।’

দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, ‘শুক্রবার (আজ) দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে সকালে দুদক প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা ও দুদকের পতাকা উত্তোলন এবং দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনাররা। এরপর হবে মানববন্ধন। পরে শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনা সভা ও দুদক মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হবে।’-সুত্র কালবেলা