আর্ন্তজাতিক
‘বিপর্যয়, বিব্রতকর, অপমানজনক’-জার্মান গণমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া
স্নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে অভিজ্ঞতা হলো জার্মানির। পরপর দুই আসরের গ্রুপপর্ব থেকে ছিটকে যাওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে দলটির ভক্ত-সমর্থকরা। মুলার-নয়্যারদের প্রতি খুব একটা দরদ দেখায়নি জার্মান গণমাধ্যমও। জার্মানি এমন এক দল যারা সাধারণত সহজে ভেঙে পড়ে না। গত আসরে গ্রুপপর্বে বাদ পড়া দলটি এবার স্বরূপে ফিরবে বলেই বিশ্বাস ছিল সবার। ফ্রান্স, স্পেন, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনার সঙ্গে আসরের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে কাতারে যায় কোচ হ্যান্সি ফ্লিকের দল। কিন্তু জাপানের কাছে হার আর স্পেনের সঙ্গে ড্রতে কপাল পুড়েছে জার্মানির। শেষ ম্যাচে কোস্টারিকাকে হারিয়েও তাই নকআউট পর্বে যাওয়া হয়নি তাদের। যদিও তাদের এভাবে ছিটকে যাওয়ার পেছনে জাপানের বিতর্কিত গোলকে দায়ী করা হচ্ছে। স্পেনের বিপক্ষে জাপানের ওই গোল বাতিল হলে জার্মানির সম্ভাবনা থাকতো বলে দাবি করছেন অনেকেই।
১৯৬৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্টের শট গোললাইন অতিক্রম করার আগেই রেফারি গোলের বাঁশি বাজিয়ে ফেলেন। জার্মানি হেরে যায়। সেদিকে ইঙ্গিত করে জার্মানির প্রভাবশালী পত্রিকা ‘বিল্ড’ হেডলাইন করেছে ‘ভায়েই ওয়েলম্বলি’ মানে ‘ওয়েম্বলির মতো’। বিল্ড শিরোনামে আরও লিখেছে, ‘হতবিহ্বল অপমানজনক’।
ফ্রাঙ্কফুর্টের বিখ্যাত সংবাদপত্র ফ্রাঙ্কফুর্টার আলগামাইনে জাইটন (ফাজ) বলেছে, ‘চার বছর আগে প্রথম রাউন্ডের সেই ঐতিহাসিক বিদায়ের পর জার্মানির ফুটবলের আবার অধঃপতন। ২০১৪ বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকেই সবকিছু নিম্নমুখী। বিশ্বসেরাদের কাতারে পৌঁছানো যেন জার্মানদের জন্য এক অলীক স্বপ্ন।’ হামবুর্গ ও ড্রেসডেন মরর্নিং পোস্টের শিরোনাম ছিল ‘ক্যাটাস্ট্রফ’ মানে ‘বিপর্যয়’। ডাই ভেল্ট বলেছে, ‘জার্মানি এখন আর টুর্নামেন্টের দল নয়। ব্যর্থতার অতল গহ্বর থেকে বেরিয়ে আসতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা জরুরি।’ জার্মানির কোচ হ্যান্সি ফ্লিক জানিয়েছেন, এখনই চাকরি ছাড়ছেন না তিনি। তার উদ্দেশ্যে ‘দ্য বাভারিয়ান ফুটবল ওয়ার্কস’ বলেছে, ‘ফ্লিকের যদি কোনো সম্মান থাকে তাহলে পদত্যাগ করা উচিৎ।’ জার্মানির সাবেক তারকা বাস্তিয়ান শোয়েনস্টাইগার বলেছেন, ‘খুব, খুবই খারাপ। রক্ষণে আমাদের মাত্র একজন খেলোয়াড় আছে, যে উঁচু মান বজায় রেখে খেলতে পারে। সে অ্যান্টোনিও রুডিগার। আর বাকিরা হলো বুন্দেসলিগা লেভেলের।
আমাদের ভালো রক্ষণ তৈরিতে ফিরে যেতে হবে।’ আরেক সাবেক তারকা সামি খেদিরা বলেছেন, ‘জশুয়া কিমিখ ও লিওন গোরেটজকাকে খেলানোটা ছিল জুয়ার মতো।’ তবে সামি খেদিরা এখনই ফ্লিককে বরখাস্ত করার পক্ষে নন। যেহেতু এটা ফ্লিকের প্রথম মেজর টুর্নামেন্ট ছিল, চ্যাম্পিয়নস লীগ জয়ী এই কোচকে আরও কিছুদিন সময় দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন ২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী খেদিরা। দলের বর্তমান খেলোয়াড়রাও ভেঙে পড়েছেন। কিমিখ বলেছেন,‘আমার জীবনে এত খারাপ সময় আর কখনোই আসেনি।’ রুডিগার বলেছেন, ‘আমরা শূন্যে ফিরে গেছি। এটাই চরম বাস্তবতা। অনেক প্রতিভা। ভালো খেলোয়াড়ের কমতি নেই। কিন্তু কিছু জিনিসের ঘাটতি ছিল।’

