স্বাস্থ্য
মানুষ কেন ঘুমের মধ্যে মারা যায়?
যখন মানুষ নিজেদের মৃত্যুর কথা চিন্তা করে, বিশেষ করে বৃদ্ধ বয়সে ঘুমের মধ্যে মারা যাওয়া প্রায়ই মানুষের কাছে কম ভীতিকর মনে হয়, সাধারণ মানুষের ভাবনা হলো, এ ধরণের মৃত্যু সম্ভবত ব্যথাহীন। আর এ ছাড়া মানুষ তার জীবনের তিনভাগের একভাগ সময়ই ঘুমিয়ে কাটায়। তাই এই ধরণের মৃত্যুকে খুব একটা অস্বাভাবিকও মনে হয় না।
কিন্তু যখন এটি অপেক্ষাকৃত কমবয়সী মানুষের ক্ষেত্রে ঘটে? সেক্ষেত্রে দেখা যায় বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজনের জন্য এটি বড় ধরণের ধাক্কা হয়ে যায়। অথচ একটি মানুষের ঘুমের মধ্যে মারা যাওয়ার মতো ঘটনা যে কোনো বয়সেই হতে পারে।
কিন্তু কেন মানুষ ঘুমের মধ্যেই মারা যায়? আর এই ধরণের মৃত্যু কী প্রতিরোধযোগ্য?
নিউজ উইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সংক্রান্ত গবেষণা বলছে খুব বেশি ঘুম বা খুব কম ঘুম সামগ্রিকভাবে মৃত্যুর ঝুঁকির সঙ্গে জড়িত। তবে ঘুমের পরিমাণ একজন মানুষের ঘুমের মধ্যে মারা যাওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে কী না, তার কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নেই। এ সংক্রান্ত আরও গবেষণা দরকার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশির ভাগ মানুষ ঘুমের মধ্যে মারা যায় স্বাস্থ্যগত নানা জটিলতা ও সমস্যার কারণে। আর এ ধরণের জটিলতা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই এ ধরণের মৃত্যু ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
যুক্তরাজ্যের নটিংহাম ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ মেলিন্দ সোভানি বলেছেন, আপনার ঘুমের মধ্যে মারা যাওয়া সাধারণত হার্ট, ফুসফুস বা মস্তিষ্কের সঙ্গে সম্পর্কিত। মাঝে মধ্যে ডায়বেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিরা কম গ্লুকোজের মাত্রার কারণে ঘুমের মধ্যে মারা যেতে পারেন। সাধারণত ডায়বেটিক্স আক্রান্ত রোগীদের রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে না।
সোভানি জানান, ৩০ এর দশকে একজন পুরুষ রোগী ঘুমের পম্প ডিজিজের কারণে মারা গিয়েছিলেন, এই রোগটি গ্লুকোজ স্টোরেজের একটি অসুখ যা পেশী দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্টের কারণ হয়।
এ ছাড়া মৃগীরোগের মতো স্নায়বিক অবস্থাও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ মৃগীরোগ শ্বাসযন্ত্র ও কার্ডিয়াক ফাংশনকে প্রভাবিত করে আকস্মিক মৃত্যু (এসইউডিইপি) ঘটাতে পারে, আর এমনটা ঘুমের মধ্যেও হতে পারে।
২০১৮ সালে ফ্রন্টিয়ার্স ইন নিউরোলজিতে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে এসইউডিইপিতে ভোরের দিকে মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আর এ সময়ই সাধারণত মানুষ ঘুমে থাকে। একইভাবে অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং এটি ঘুমের মধ্যেও হতে পারে।
এ ছাড়া অনেকেই স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত, যাদের ঘুমের মধ্যে শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৭ সালে ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের চালানো এক সমীক্ষায় দেখা গেছে অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়াতে আক্রান্ত ব্যক্তির হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ (হার্ট ফেইলর) হয়ে মারা যাওয়ার ঝুঁকি সাধারণ ব্যক্তির থেকে আড়াইগুণ বেশি।
সোভানিয়া জানান, অ্যারিথিমিয়াস নামের হার্টের ব্যধি যা অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দনের জন্য দায়ী। তাদেরও ঝুঁকি রয়েছে। তাহলে উপায়?
শুধু বয়স্করাই নয়, ঘুমের মধ্যে মৃত্যু হতে পারে কমবয়সী ব্যক্তিরও। সেক্ষেত্রে এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত ঘুমানো।
হাইব্লাড প্রেশার ও ডায়বেটিক্স থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত ওষুধ সেবন করা। এ ছাড়া মৃগী রোগ জনিত সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। ফুসফুস ও হৃৎপিন্ডে কোনো সমস্যা অনুভব করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

