কমিউনিটি
কংগ্রেসে প্রস্তাব উত্থাপন
ওয়াশিংটন ডিসি : বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫২তম বার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রকংগ্রেস গত ২৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন এবংএর উল্লেখযোগ্য আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির স্বীকৃতি ও প্রশংসা করে একটি প্রস্তাবউত্থাপন করে।
কংগ্রেসনাল বাংলাদেশ ককাসের পক্ষ থেকে সাউথ ক্যারোলিনার রিপাবলিকানকংগ্রেসম্যান জো উইলসন কংগ্রেসে এই প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন।
জো উইলসন সিনিয়র (জন্ম ৩১ জুলাই,১৯৪৭) ২০০১ সাল থেকে সাউথক্যারোলিনার ২য় কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের জন্য মার্কিন প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন। তিনি এর আগে ১৯৮৫ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ২৩তম জেলাথেকে সাউথ ক্যারোলিনা স্টেট সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রস্তাবটি উত্থাপনকালে কংগ্রেসম্যান উইলসন ৫১ বছর আগে ১৯৭২ সালের ৪এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা স্মরণ করেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাসব্যাপীবাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী এবং এর দোসরদেরনারকীয় হত্যাযজ্ঞের কথা প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয় এবং বলা হয় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেমহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ছিল গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার সংগ্রাম।
এতে বলা হয় বিগত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ ব্যাপক উন্নয়ন ও অগ্রগতি সাধনকরেছে । বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল দেশগুলির মধ্যে বাংলাদেশ একটি যার মাথাপিছুজিডিপি বেড়ে ২০২১ সালে দাড়িয়েছে ২৪৫৭ মার্কিন ডলারে যা এখন তারআঞ্চলিক প্রতিবেশীর চেয়ে অনেক বেশি।
রেজুলেশনে আরও উল্লেখ করা হয় ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকেবাংলাদেশের অর্থনীতি ৯ বিলিয়ন থেকে ৪৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে, গড়আয়ু ৪৭ বছর থেকে বেড়ে ৭৩ বছর হয়েছে এবং বয়স্ক সাক্ষরতার হার বেড়েদাঁড়িয়েছে ৭৫ শতাংশের বেশি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদন, দারিদ্র্যহ্রাস, উন্নত স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, দুর্যোগ প্রশমনসহআর্থ-সামাজিকখাতে যথেষ্ট অগ্রগতি লাভ করেছে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়।
প্রস্তাবে বলা হয় বাংলাদেশ সফলভাবে মডারেট মুসলিম সমাজ ব্যবস্থা বজায়রেখেছে, উগ্রবাদ দমন করেছে, এবং দেশটির জনগণ বন্দুকের কর্তৃত্ববাদী শাসনেরপরিবর্তে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের প্রতি সমর্থন বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।
প্রস্তাবে বলা হয় আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং জলবায়ুপরিবর্তনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে ব্যাপক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরিহয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য বৃহত্তম রপ্তানি বাজার এবংবাংলাদেশে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগের একটি বৃহত্তম উৎস। বাংলাদেশদ্বিপাক্ষিক, বাণিজ্যিক এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহযোগিতার মাধ্যমেযুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও অবদান রেখে চলছে।
রেজুলেশনে বলা হয় প্রতিবেশী বার্মা দ্বারা সংঘটিত গণহত্যা রোধে ১০ লাখেরবেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অপরিহার্য ভূমিকাপালন করে যে উদারতার পরিচয় দিয়েছে, আমেরিকার জনগণ তার প্রশংসা করে।মায়ানমার সৃষ্ট এই সঙ্কট মোকাবেলায় মানবিক সহায়তা বাবদ সবচেয়ে বেশি অর্থদিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
এতে আরও বলা হয় বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেবাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম সবচেয়ে বৃহৎ সৈন্য প্রেরণকারী দেশ যা আমেরিকারজনগণের কাছে সর্বদা প্রশংসা অর্জন করেছে। উভয় দেশই অর্জিত সমৃদ্ধিবিনিময়ের জন্য তাদের জনগণের সাথে জনগণ এবং সরকারের সাথে সরকারেরসম্পর্ক আরও উন্নত করতে চায়।
প্রস্তাবে বলা হয় বাংলাদেশের জনগণকে ১০ কোটি ডোজেরও বেশি কোডিভভ্যাকসিন প্রদানের জন্য বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের জনগণ যখন স্বাধীনতার ৫১ বছরউদযাপন করছে তখন আমেরিকার জনগণ বাঙালি জাতির ভূয়সী প্রশংসা ওস্বীকৃতি প্রদান করে। বর্তমান এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক অর্থনৈতিক, সামাজিক ওজাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গঠনমূলক অংশীদারথাকার আন্তরিক দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে বলেও রেজুলেশনে মন্তব্য করাহয়েছে।-এজেডএম সাজ্জাদ হোসেন প্রেরিত

