স্বাস্থ্য
শীতে সর্দি-কাশি বাড়ার কারণ খুঁজে পেলেন গবেষকরা
শীতের কনকনে বাতাসে অনেকেরই ঠান্ডা লেগে যাচ্ছে। তাই ভোগান্তি হয়। হাঁচি, কাশি, গলাব্যথা, নাক দিয়ে পানি পড়া ইত্যাদি যন্ত্রণা বাড়ে। এ সমস্যার জন্য দায়ী ছোঁয়াচে রোগ-জীবাণু চারদিকে ঘুরে বেড়ায়। আর যাকে নাজুক অবস্থায় পায়, তাকেই আক্রমণ করে বসে।
হাঁচি-কাশির জীবাণুগুলো অবশ্য সারা বছরই থাকে। তাহলে গ্রীষ্মের তুলনায় শীতেই কেন বেশি মানুষ এতে আক্রান্ত হয়? যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক প্রশ্নটির উত্তর খুঁজে পেয়েছেন। তারা বলছেন, শীতের ঠান্ডা বাতাস মানুষের নাকের ভেতরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। প্রকৃতপক্ষে নাকের ভেতরের তাপমাত্রা মাত্র ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে গেলেই অনেক কিছু বদলে যায়। ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী কোটি কোটি কোষ তখন নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে বা নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণেই গরমকালের চেয়ে মানুষ শীতকালে সর্দি-কাশিতে বেশি কাবু হয়ে পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘জার্নাল অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল ইমিউনোলজি’ সাময়িকীতে এ-সংক্রান্ত একটি গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট গবেষক ও হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের সহযোগী অধ্যাপক ডা. বেনজামিন ব্লেয়ার বলেন, ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে ভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধির একটা যোগসাজশ আছে। কারণ, তাপমাত্রা নেমে গেলে মানুষ প্রায় অর্ধেক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
তিনি আরও বলেন, ‘শীতে ভাইরাসজনিত সংক্রমণ বেশি হয়। কারণ ঠান্ডা পড়লেই আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্ধেকে নেমে আসে।’
নাকের বিভিন্ন অসুখের ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বেনজামিন মনে করেন, ঠান্ডা বাতাস থেকে নাককে সুরক্ষিত রাখতে মাস্ক পরা যেতে পারে। মাস্ক ব্যবহার করলে শুকনা জীবাণু ঠেকানো যায়। সেই সঙ্গে এটি শীতে নাকের সোয়েটার হয়ে যায়।

