অর্থনীতি
আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও লাগামহীনভাবে খেলাপি ঋণ বাড়ছে
ঢাকা: ব্যাংকের বাইরে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ব্যাপক হারে বেড়েছে খেলাপি ঋণ। অনিয়মের মাধ্যমে দেওয়া ঋণ আদায় করতে পারছে না বেশ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। তহবিল সংকটের কারণে সেগুলো গ্রাহকের জমানো টাকাও ফেরত দিতে পারছে না। এর প্রভাব পড়েছে এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পদের গুণগত মানে। তিন মাস আগের তুলনায় চলতি অর্থবছরের সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ২৪ দশমিক ৬১ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া যায়।
প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতি প্রান্তিকেই বাড়ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে এসব প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা। একই সময়ে মোট ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ৭০ হাজার ৪১৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এর আগের তিন মাসে (এপ্রিল-জুন) খেলাপি ঋণ বেড়েছিল ১৫ হাজার ৯৩৬ কোটি। এ হিসেবে দেশে ৩৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান যে পরিমাণ ঋণ বিতরণ করেছিল, এর মধ্যে ২২ দশমিক ৯৯ শতাংশ খেলাপি ছিল। ব্যাংকের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও খেলাপি ঋণের বিপরীতে কোনো আয় দেখাতে পারে না। অথচ আমানতকারীকে নিয়মিত সুদ দিতে হয়। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের তহবিল ব্যয়ও বাড়ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ঋণের অধিকাংশই অনিয়মের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। এমন লোকদের ঋণ দেওয়া হচ্ছে, যারা পরবর্তী সময়ে টাকা আর পরিশোধ করছে না। ফলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দিনে দিনে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ এসব ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে জড়িত থাকে। তাদের মতে, গত কয়েক বছরে আর্থিক খাতে নানা রকমের কেলেঙ্কারি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব খেলাপি ঋণের বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠানে টাকা রেখে আমানতকারী তা ফেরত পাবেন না, এটা খুবই দুঃখজনক। এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যাদের অবস্থা খারাপ, তাদের মূল সমস্যা সুশাসনের ঘাটতি। এটা এক দিনে হয়নি। অন্তত ৫ থেকে ৭ বছর ধরে হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিলে দেখা যাবে, পরিচালনা পর্ষদের চাপে ঋণ দেওয়া হয়েছে অথবা এ সময় এমডিরা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেননি বা সাহস পাননি।

