অর্থনীতি

বিশ্বজুড়ে প্রধান অর্থনীতিগুলো মন্দায় পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে - ডব্লিউটিওর সতর্কতা

নভেম্বর ১৮, ২০২২ ১১:২৬ দুপুর
বিশ্বজুড়ে প্রধান অর্থনীতিগুলো মন্দায় পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে - ডব্লিউটিওর সতর্কতা

ইউক্রেন যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বজুড়ে রেকর্ড পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি। ক্রমবর্ধমান রয়েছে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম। মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়াচ্ছে প্রধান অর্থনীতির কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো। এ অবস্থায় বিশ্বজুড়ে মন্দার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তবে বিস্তৃত আকারে মন্দার ঝুঁকি কম বলে মনে করছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)। বরং কিছু প্রধান অর্থনীতি মন্দায় পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে ধারণা করছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর রয়টার্স।

ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠিত জি২০ সম্মেলনে ডব্লিউটিওর মহাপরিচালক এনগোজি ওকোনজো-আইওয়েলা বলেন, বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত আকারে মন্দা দেখা দেবে বলে মনে হয় না। তবে কিছু প্রধান অর্থনীতি মন্দায় পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। যদিও এ প্রভাব উদীয়মান অর্থনীতি ও দরিদ্র দেশগুলোর জন্য যথেষ্ট তাত্পর্যপূর্ণ হতে পারে। কারণ এ পরিস্থিতিতে চাহিদা কমে যাওয়ায় উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর রফতানি আয়ও নিম্নমুখী হয়। এরই মধ্যে এমন প্রবণতা দেখা দিয়েছে। তবে এ প্রভাব মোকাবেলায় উন্নত দেশগুলোর সহায়তা প্রয়োজন। কারণ আন্তর্জাতিক চাহিদা অব্যাহত থাকলে উদীয়মান দেশগুলোয় মন্দার প্রভাব কমে যাবে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভাভিত্তিক বাণিজ্য সংস্থা গত মাসে পূর্বাভাস দিয়েছিল, ২০২৩ সালে বিশ্ব বাণিজ্য মাত্র ১ শতাংশ বাড়বে। এ হার চলতি বছর ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাণিজ্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস থেকে অনেক কম।

ওকোনজো-আইওয়েলা বলেন, অর্থনীতি নিয়ে অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে। বেশির ভাগ পূর্বাভাসও নেতিবাচক দিকে রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ ও মূল্যস্ফীতির পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট জটিলতা বিশ্ব অর্থনীতিতে অন্ধকার ছায়া ফেলেছে। এ পরিস্থিতি কবে নাগাদ ঠিক হবে তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

গতকাল জি২০ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন পোল্যান্ডের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিয়ে একটি জরুরি বৈঠকের জন্য আলোচনা ব্যাহত হয়। ইউক্রেন সীমান্তের কাছাকাছি পোল্যান্ডে এ হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনার পর পরই জরুরি বৈঠক ডাকে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি রাশিয়া থেকে ছোড়া হয়েছিল কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এ পরিস্থিতি ইউক্রেন যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক পতন নিয়ে আরো অনিশ্চয়তা যুক্ত করেছে।

ডব্লিউটিও প্রধান বলেন, আমি জি২০ নেতাদের খাদ্য রফতানি নিষেধাজ্ঞাগুলো পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করার আহ্বান জানাচ্ছি। বর্তমানে সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতেও এমন নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকা অনাকাঙ্ক্ষিত। এ পদক্ষেপ খাদ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং দরিদ্র দেশগুলোকে বিপর্যস্ত অবস্থায় ফেলে দিচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে নানা নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যেও ভালো খবর হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জি২০ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠকে বসা। বিষয়টি উল্লেখ করে এনগোজি ওকোনজো-আইওয়েলা বলেন, অনেকেই বড় এ ঘটনা নিয়ে কথা বলছেন না। কিন্তু এটি সর্বদা ভালো যখন বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির রাষ্ট্রপ্রধান একে অন্যের সঙ্গে কথা বলেন। এটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ঠিক করার পাশাপাশি বিশ্ব বাণিজ্য পুনরুদ্ধারের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।

ওকোনজো-আইওয়েলা জানান, তিনি খুব আশাবাদী যে এখন ডব্লিউটিওর বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার সংস্কারে কিছু অগ্রগতি হবে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য বিরোধ নিরসনে আপিল সংস্থার বিচারক নিয়োগ কার্যক্রমে বাধা দেয়ায় ২০১৯ সাল থেকে এ কার্যক্রম স্থবির অবস্থায় রয়েছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অনানুষ্ঠানিক পর্যায়ে অন্য সদস্যদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে পরামর্শ করছে। মার্কিন নেতাদের বিষয়টিতে যুক্ত হওয়ায় আগামী বছরের শুরু থেকে বাণিজ্য বিরোধ নিষ্পত্তি বিরোধ সংস্কারের অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে।

গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে সাত বৃহৎ অর্থনীতির জোট জি৭-এর বাণিজ্যমন্ত্রীরা ২০২৪ সালের মধ্যে একটি কার্যকরী ডব্লিউটিও বাণিজ্য বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করতে সম্মত হয়েছিলেন।