খেলা

যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে সতর্ক নেদারল্যান্ডস: ডাচ-মার্কিন লড়াই দিয়ে শুরু হচ্ছে নকআউট পর্ব

ডিসেম্বর ০৩, ২০২২ ৭:০০ সকাল
যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে সতর্ক নেদারল্যান্ডস: ডাচ-মার্কিন লড়াই দিয়ে শুরু হচ্ছে নকআউট পর্ব

ডাচ্‌-মার্কিন লড়াই দিয়ে শুরু হচ্ছে নকআউট পর্ব। আর যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে সতর্ক নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞ কোচ লুইস ভ্যান গাল। শেষ ষোলো রাউন্ডের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডস-যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি হচ্ছে আজ। দোহার খলিফা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে রাত ৯টায়। সেনেগালকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করে নেদারল্যান্ডস। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ইকুয়েডরের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে ডাচরা। শেষ ম্যাচে স্বাগতিক কাতারকে ২-০ গোলে হারিয়ে ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ষোলোতে যায় তিনবারের ফাইনালিস্ট নেদারল্যান্ডস। ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ দল যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে ওয়েলস এবং ইংল্যান্ডের সঙ্গে ড্র করে। তৃতীয় ম্যাচে ইরানকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট পায়। শক্তি-সামর্থ্যে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এগিয়ে নেদারল্যান্ডস।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুই দলের ৫ দেখায় চারবারই জয় পেয়েছে ডাচরা। সবশেষ ২০১৫ সালে একটি ম্যাচ হেরেছিল ওরেঞ্জরা। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচটিতে নেদারল্যান্ডসকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ডাচ কোচ লুই ভ্যান গালের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের মোকাবিলা কঠিন হবে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে আমার। দলটি (অস্ট্রেলিয়া) আমাদের ২০১৪ বিশ্বকাপে ভুগিয়েছে। প্রতিপক্ষ হিসেবে এমন দলগুলো কঠিন হয়।’ ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল নেদারল্যান্ডস। সেই ম্যাচে ৩-২ গোলে হারলেও ডাচদের ভুগিয়েছিল সকারুরা। ভ্যান গাল বলেন, ‘(যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়ার মতো দলগুলোর) তাদের খেলার ধরন দুর্দান্ত হয়। বল দখলে আধিপত্য দেখায় তারা।’ বিশ্বকাপে তিনবার ফাইনাল খেলেছে নেদারল্যান্ডস। বিপরীতে বিশ্বকাপ ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অর্জন সেমিফাইনাল। তাও আবার ১৯৩০ সালে। মার্কিনদের বিপক্ষে তারকাবহুল দল নেদারল্যান্ডসের পক্ষে বাজি ধরছেন অধিকাংশ। তবে শেষ ষোলোর লড়াইকে সহজভাবে নিচ্ছেন না ডাচ তারকা মেম্ফিস ডিপাই। তিনি বলেন, ‘অনেক মানুষ এটাকে খুব সহজ ভাবে নিচ্ছে। এটা কঠিন ধাপ। আমরা গ্রুপপর্বে উত্তীর্ণ হয়েছি। নকআউট স্টেজ খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখানে কোনো ভুল করা যাবে না।’ গ্রুপপর্বের তিন ম্যাচে শুধু কাতারের বিপক্ষে আধিপত্য দেখাতে পারে নেদারল্যান্ডস। সেনেগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরুর ম্যাচেও ডাচদের দাপট ছিল না। কিংবা ইকুয়েডরের সঙ্গে ড্র করা ম্যাচেও শাসিত হয়েছে ওরেঞ্জরা। সে ম্যাচে ইকুয়েডর ১৫টি শট নেয়। বিপরীতে নেদারল্যান্ডস মাত্র ২টি শট নিতে পেরেছিল। ডাচ মিডফিল্ডার মার্টিন ডি রুনের মতে, আধিপত্য না দেখাতে পারলেও গ্রুপপর্বে কোনো ম্যাচ না হারা ইতিবাচক বিষয়। তিনি বলেন, ‘কোনো ভালো ম্যাচ না খেলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেও আমার সংকোচবোধ থাকবে না। ইতিবাচক বিষয় হলো (গ্রুপপর্বে) আমরা কোনো ম্যাচ হারিনি। এটা আমাদের সফল হওয়ার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।’ যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ভালো করার প্রত্যয় জানিয়ে ডি রুন বলেন, ‘আমরা ভালো কিছুর প্রত্যাশা করছি। অবশ্যই যেকোনো প্রতিপক্ষকে ৫-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হতে চাই আমরা। তবে এটি সহজ নয়। শনিবার (যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচ) দিয়ে জয়যাত্রা শুরু হতে পারে।’ যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণভাগের সেরা তারকা ক্রিস্টিয়ান পুলিসিক। চেলসি ফরোয়ার্ডের গোলেই ইরানকে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট পায় মার্কিনরা। তবে সেই ম্যাচে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন পুলিসিক। শেষ ষোলোয় নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচে তার খেলা অনিশ্চিত। পুলিসিকের বিশ্বাস তার অনুপস্থিতিতে দলকে সাফল্য এনে দিতে পারে মার্কিন ফুটবলাররা। পুলিসিক বলেন, ‘সত্যি বলতে, এই দলটা আমার অনেক চাপ কমিয়েছে। কয়েক বছর আগেও এমন সময় ছিল, আমার মনে হতো আমাকে আরো চাপ নিতে হবে। তবে এই দলের সঙ্গে আমি সেটা অনুভব করি না। আমি জানি (সমর্থনের জন্য) তারা আমার পেছনে রয়েছে।’ পুলিসিক বলেন, ‘আমার কথার অর্থ হলো, আপনি আমাদের দলে অনেক মেধাবী খেলোয়াড় দেখতে পাবেন। তারা অনেক পরিশ্রমী। ঐক্যবদ্ধভাবে তারা সাফল্য এনে দিতে পারে।’