খেলা
নাটকীয় জয়ে শেষ ষোলোয় দক্ষিণ কোরিয়া, হারলেও নক আউট পর্বে রোনালদোর পর্তুগাল
রুদ্ধশ্বাস জয়ের পরও উৎকণ্ঠায় ছিল দক্ষিণ কোরিয়া। চোখ ছিল অপর ম্যাচ উরুগুয়ে ও ঘানার দিকে। সেই ম্যাচে শেষ বাঁশি বাজার পরই উল্লাসে ফেটে পড়ে কোরিয়া শিবির।
২ ডিসেম্বর শুক্রবার এইচ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে পর্তুগালকে ২-১ গোলে হারিয়ে ১২ বছর পর বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে উঠে গেছে দক্ষিণ কোরিয়া। অন্যদিকে ঘানাকে ২-০ গোলে হারিয়েও অশ্রুসিক্ত বিদায় নিয়েছে গত আসরে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা লাতিন আমেরিকার দল উরুগুয়ে। তবে হারলেও গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নক আউট পর্বে উঠে গেছে রোনালদোর পর্তুগাল।
এইচ গ্রুপে তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক হারে ৬ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে পর্তুগাল। দক্ষিণ কোরিয়া ও উরুগুয়ের তিন ম্যাচে একটি করে জয়, ড্র ও হারে সমান ৪ পয়েন্ট। তবে গ্রুপ পর্বে বেশি গোল করার সুবাদে শেষ ষোলোয় নাম লেখায় দক্ষিণ কোরিয়া।
তিন ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়া গোল করেছে চারটি। সেখানে প্রথম দুই ম্যাচে গোলহীন থাকা উরুগুয়ে শেষ ম্যাচে ঘানার বিরুদ্ধে করে মাত্র দুই গোল। ফলে দুই দলের পয়েন্ট সমান হলেও শেষ হাসি হাসে কোরিয়ান শিবির। অন্যদিকে গ্রুপ পর্ব অশ্রুসিক্ত বিদায় নেয় লুইস সুয়ারেজরা। তিন পয়েন্ট পাওয়া ঘানাও নেয় বিদায়। অথচ উরুগুয়ের বিরুদ্ধে জয় পেলেই কোন হিসাব ছাড়াই শেষ ষোলোতে যেত আফ্রিকার দেশটি।
এডুকেশন স্টেডিয়ামে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ৫ মিনিটেই লিড নেয় পর্তুগাল। দিয়োগো দালোতের কাট-ব্যাকে ছয় গজ বক্সের মুখ থেকে শটে গোলটি করেন রিকার্দো হর্তা। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচেই গোল করলেন ২৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
১৭ মিনিটে কোরিয়ার কিম জিন-সু কাছ থেকে জালে বল পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোল মেলেনি। ২৭ মিনিটে সমতায় ফেরে কোরিয়া। কর্নার ক্লিয়ার করতে পারেনি পর্তুগাল। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পিঠের ওপরে পড়ে পাওয়া বল কাছ থেকে জালে পাঠান ডিফেন্ডার কিম ইয়ং-খুয়ান। দুই মিনিট পর গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি রোনালদো। তার প্রচেষ্টা এগিয়ে এসে রুখে দেন কিম সিউং-জু। ৪২ মিনিটে আরেকটি সুযোগ হারান রোনালদো।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের জন্য মরিয়া ছিল দক্ষিণ কোরিয়া। কারণ শেষ ষোলোতে যেতে জয়ের বিকল্প ছিল না তাদের। ৯০ মিনিটের খেলা শেষ হয় সমতায়। অতিরিক্ত সময়ে চমক দেখায় কোরিয়া। হাং হি-চানের গোলে রুদ্ধশ্বাস জয় পায় দলটি।
শেষ বাঁশি বাজার পরও চূড়ান্ত উৎসবের অপেক্ষায় ছিল কোরিয়া দল। কারণ আল জানুব স্টেডিয়ামে চলছিল তখন ঘানা ও উরুগুয়ের ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত এই ম্যাচে ২-০ গোলে জেতে উরুগুয়ে। বিদায়ের হতাশায় সুয়ারেজদের চোখে যখন জল এডুকেশন স্টেডিয়ামে কোরিয়ার জয়োৎসব। উরুগুয়ের হয়ে জোড়া গোল করেন জর্জিয়ান ডি অ্যারাসকেটা।
অথচ ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টি পেয়েছিল ঘানা। গোল করতে পারেননি আন্দ্রে আইয়ু। গোলরক্ষকের নৈপুণ্যে বেঁচে গিয়ে উজ্জীবিত ফুটবল খেলে উরুগুয়ে। জয়ও পায় শেষ পর্যন্ত। তবে কোরিয়ার সঙ্গে পয়েন্ট সমান হওয়ায় হিসাব আসে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে কার গোল বেশি। সেই হিসেবে শেষ হাসি হাসে কোরিয়া।

